Monday, July 27, 2009

মিষ্টি শিল্পে নতুন জোয়ার চাই.....স্বপন হালদার

নাগরিক সাংবাদদাতা
নদীয়ার মিষ্টি ভূবন বিখ্যাত। কৃষ্ণ নগর থেকে রানাঘাট, এবং বিশেষ করে মাজদিয়ার মিষ্টি খেলে তা সারা জীবন মনে থাকবে। এই জেলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ভান্ডার, মুলত দেশীয় গরুর দুধেই মিষ্টি বানানো হয়। পিঠে পায়েস পুলি, ভুলবার নয়।
এই জেলার হাঁসখালি এবং কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের অর্থনৈতিক উন্নতি মিষ্টি শিল্পকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। এছাড়া, মাজদিয়া, জঘাটা, মহেশপুর, দত্তপুকুর, বেনালীবাজার প্রভৃতি, বিস্তীর্ন এলাকায় গরু প্রতিপালন হয় ভালভাবে। ঐ সমস্ত অঞ্চলে গোয়ালাদের সম্মান মর্যাদা অনেক বেশী।
ইদানিং একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ঐ অঞ্চলের অনেক গৃহস্থ বাড়ি থেকে এমন কি গোয়ালাদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ কিনে নিচ্ছে। এর ফলে মিষ্টির দোকানের মালিকদের কাছে দুধের জোগানে সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে ছানা তৈরীতে টান পড়ছে।
ঐ দুধ কোম্পানী সরাসরি দুধ কিনে নেওয়ায় ছানা তৈরীতে
সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মিষ্টির জোগান ঠিক রাখতে মিষ্টি দোকানের মালিকরা নদীয়ার দুরবর্তী অঞ্চল এমনকি অন্য জেলা থেকেও দুধ সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মিষ্টির দাম ঠিক রাখা যাচ্ছে না। দুধের জোগান ঠিক মতো না পাওয়ায় মিষ্টি তৈরী সংকট হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ে অন্নপ্রাসন এবং বিভিন্ন উৎসবে ভাল মিষ্টি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে, স্থানীয় গোয়ালারা বেশী পয়সার জন্য ঐ কোম্পানীকে বিক্রী করছে।
দুধের কোম্পানী কমিশনের ভিত্তিতে এই কাজের জন্য লোক রেখেছে। তারা গৃহস্থের থেকে সরাসরি দুধ কিনে নিচ্ছে। এলাকায় সীমান্ত সমস্যা আছে। বহু ক্ষেত্রে নানা রকম দ্রব্যের সাথে গরু ছাগল বর্ডার পেরিয়ে ওপারে চলে যাচ্ছে। তাই, এই অঞ্চলে আগের মতো গোপালন বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা বহুজাতিক কোম্পানীর জন্য দুধের দাম চার পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। ছানার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গরীব ছোট ব্যাবসায়ীরা বাচ্চার জন্য দুধে পাউডার মেশাতে বাধ্য হচ্ছেন। এই রকম চলতে থাকলে একদিন হয়তো দেখবো যে, কৃষ্ণ নগরের সরভাজা, মাজদিয়ার লেডিকেনি, রানাঘাটের চমচম, নবদ্বীপের দই আর প্রাচীন ঐতিহ্য পূর্ন সুনাম আর ধরে রাখতে পারছেনা।
সাধারণ মানুষের অনুরোধ সরকার এই ব্যাপারে দৃষ্টি দিক, প্রয়োজনের সমবায়ের মাধ্যমে ভাল দুধ সংগ্রহ করুক। তাতে মিষ্টি শিল্প নদীয়ায় আবার চাঙ্গাঁ হয়ে উঠবে।

No comments:

Post a Comment