Saturday, April 11, 2009

ঘুম কম হলে বাড়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি



ঘুমের অনিয়ম হলে আত্মহত্যার ঝোঁক বাড়ে৷ এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ ঘুমের ক্ষেত্রে খুবেশি অনিয়মে ভোগে, তারা প্রায়ই আত্মহত্যা করার কথা ভাবে অর্থাৎ নিজেদের যে কোন ভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করে৷

এছাড়া গবেষকরা দেখেছেন, ঘুমের অভাবে মানুষের বিচার বিবেচনা শক্তি লোপ পায় এবং হতাশা বাড়ে৷ তবে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক উপাদানের কার্যকারিতার ত্রুটির কারণেও আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে৷
গবেষকরা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে বলেন, একজন মানুষের সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া, ঘুম না আসা অথবা রাতে বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া – এ ধরনের যত বেশি সমস্যা হয়, ততোটাই তার মধ্যে আত্মহত্যা বা নিজেকে মেরে ফেলার চিন্তা ও ঝোঁক বাড়তে থাকে৷ গবেষকরা দেখেছেন, যে বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রেই খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে ওঠার সাথে আত্মহত্যার একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে৷
মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষক মার্সিন ওয়াজনার এবং তাঁর সহযোগীরা আমেরিকার ৫,৬৯২ জন নারী-পুরুষের মধ্যে ঘুম এবং আত্মহত্যার সম্পর্ক নিয়ে এই গবেষণা করেন৷ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এক তৃতিয়াংশই পূর্বের বছরে ঘুম জনিত কমপক্ষে একটি সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছে৷ উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৮,৭৭,০০০ মানুষ আত্মহত্যা করে৷ আর একজন ব্যক্তি আত্মহত্যা করার আগে গড়ে ১০ থেকে ৪০ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে৷
ওয়াজনার বলেন, ঘুমের ক্ষেত্রে যাদের এক বা একাধিক সমস্যা রয়েছে তারা অন্যদের চেয়ে ২.৬ গুণ বেশি আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকে৷ এখান থেকে উপলব্ধি করা যায়, যে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একজন রোগীর ঘুমের বিষয়টি চিকিৎসকের কতটা লক্ষ্য করা দরকার৷ কেননা মানসিক সমস্যা না থাকলেও একজন রোগী আত্মহত্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে৷ তবে মানসিক ভারসাম্যহীন এবং উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি অনেক বেশি বলে গবেষকরা মনে করেন৷ ওয়াজনার বলেন, আমাদের গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে, যে মানুষের ঘুমের সমস্যা বা অনিয়ম দূর করতে পারলে, আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে৷

No comments:

Post a Comment