
ক্ষমতায় আসার ৩ মাস পর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপগুলির সুফল দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷ তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, যে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে৷
বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সূত্রপাত ঘটেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে – যখন জর্জ ডাব্লু বুশ সেদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন৷ বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসে উত্তরাধিকারসূত্রে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন৷ নিবার্চনী প্রচারাভিযানে এবং ক্ষমতায় আসার পরেও ওবামা এই সঙ্কটের সমাধানের প্রশ্নে কোনো অলীক, অবাস্তব স্বপ্ন দেখান নি, চটজলদি সমাধানসূত্র তুলে ধরেন নি – বরঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায়, সতর্কতার সঙ্গে অপ্রিয় ও ভয়াবহ বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন৷ তাঁর প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকে নি – একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ সেই সব কর্মসূচির সার্থকতা ও প্রভাব সম্পর্কে বিতর্ক থাকতে পারে এবং বিরোধী রিপাব্লিকান দলের কণ্ঠে সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে৷
সেই বারাক ওবামাই ক্ষমতা গ্রহণ করার ৩ মাস পর ক্ষীণ হলেও অর্থনীতির উন্নতির প্রশ্নে সামান্য আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন৷ সতর্কভাবে হলেও তিনি এই প্রথম ইতিবাচক প্রবণতার কথা বললেন৷ একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, যে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে৷ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন আরও নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে ওবামা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও এই পরিকল্পনার খুঁটিনাটি কোনো বিষয় সম্পর্কে তিনি মুখ খোলেন নি৷
শুক্রবার ওবামা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেড’এর প্রধান বেন বার্নাক, অর্থমন্ত্রী টিমথি গাইটনার, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরেন্স সামার্স সহ একাধিক উপদেষ্টা ও প্রশাসনের অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ ওবামার মতে, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার সুফল ক্রমশঃ লক্ষ্য করা যাচ্ছে – যেমন ছোট আকারের শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান আবার ব্যাঙ্কের ঋণ পেতে শুরু করেছে, কর ছাড়ের কর্মসূচি কার্যকর হতে শুরু করেছে, পরিকাঠামো ও জ্বালানীর ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ দেখা যাচ্ছে৷
ওবামা মনে করিয়ে দেন, যে প্রশাসনের যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মানুষ সেই সব প্রচেষ্টার ফলাফল দেখতে চায়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা যাই করি না কেন, তার ফল হতে হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং মার্কিন জনগণের আয়বৃদ্ধি৷’’
এদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে বিগত মার্চ মাসে বাজেট ঘাটতির মাত্রা ১৯,২৩০ কোটি ডলার ছুঁয়েছিল, যা এক সর্বকালীন রেকর্ড৷
No comments:
Post a Comment